November 1, 2022

হ্যালোউইন গেলো গতকাল। সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম কাজে। দেখি এলাকার দুনিয়ার ছেলে-বুড়া ...


হ্যালোউইন গেলো গতকাল। সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম কাজে। দেখি এলাকার দুনিয়ার ছেলে-বুড়া ভূত সেজে ক্যান্ডি কুড়াতে পাড়াবেড়ানিতে বের হয়েছে। অন্তত মাসখানেক জুড়ে অনেকের বাসার সামনে ডেকোরেশন চলে। কারো গাছের সাথে ভূত লটকে আছে, তো কারো স্কেলিটন। কেউ কেউ আবার গ্রেইভইয়ার্ড বানিয়ে রেখেছে। কে কতো বেশি স্পুকি ওয়েতে ফ্রন্ট ইয়ার্ড সাজাতে পারে, তার কম্পিটিশনে নামে কেউ কেউ।

সবাই যে সেলিব্রেট করে, তা কিন্তু না। অনেকে হয়ত বুঝে করে না, ফান। কিন্তু ভূতপ্রেত, ব্ল্যাক ম্যাজিক, স্যাটানিক ওয়ারশিপ এগুলা নিয়ে কেউ ফান করতে পারে, এই হ্যালোউইন না দেখলে জানতাম না। কোথা থেকে হ্যালোউইনের উৎপত্তি, সেটা একটু খুঁজলেই চোখে পড়বে। অন্তত জিনিসটা কোনভাবেই ফান হতে পারে না। কিন্তু যেভাবে মানুষের এই সেলিব্রেশন বাচ্চাদের মাথায় গেঁড়ে দিচ্ছে, অদ্ভুত লাগে। শয়তানের লেজ, শিং এর কস্টিউম, উইচক্র্যাফটের ডাইনীদের টুপি, হাউ কাম!

ফান বেইজড প্যাগান সেলিব্রেশন অনেক নন-মুসলিমও এভয়েড করে। কিন্তু যখন দেখি হ্যালোউইনের রাতে হিজাব পড়া মা, দাড়ি ওয়ালা বাবারা বাচ্চাদের বাড়ি বাড়ি নিয়ে ক্যান্ডি চাওয়ার অভিযানে নামে অবাক লাগে। আশপাশ থেকে বাবা-মার ডাক শুনছি, ঊমার...আবদুল্লাহ! রিয়েলি? অন্তত নামের মর্যাদা রাখেন। যে সব সাহাবা, নবী, সলেহীনদের নামে বাচ্চাদের নাম রেখেছেন, তাদের এইসব মিনিংলেস ফানে নাম লিখিয়ে জীবনের কোন মিনিং শেখাবেন!

সব স্রোতে গা ভাসাতে হয় না। বুঝ না পাওয়া আপনার ছোট্ট বাচ্চাটাকে অন্য ভূতপ্রেত কিছু না হোক, একটা পাম্পকিন কিংবা প্যাঙ্গুনের কস্টিউম পড়িয়ে যখন দুনিয়া জানান, ফার্ষ্ট হ্যালোউইন অফ মাই চাইল্ড, এই বাচ্চাকে আপনি কিভাবে ইসলাম শিখাবেন? তার মনে হবে অন্যসব ধর্মে ফান আছে, যা খুশি তাই করা যায়, যা ইচ্ছা তেমন সাজা যায়। এগুলা ইসলামে নাই। তাহলে নিশ্চয়ই ইসলাম রসকষহীন একটা ব্যাপার। আপনি নিজে তাকে ঠেলে দিচ্ছেন ইসলামবিহীন জীবনকে পছন্দ করতে। এর দায়ভার আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না।

গত সপ্তাহখানেক জুড়ে মসজিদগুলো বাচ্চাদের প্রোগ্রাম হচ্ছে, যেখানে ইসলাম যে এই ধরনের সেলিব্রেশন এলাউ করে না, বারবার বুঝানো হচ্ছে। ইসলামে দুই ঈদ ছাড়া আর কোন সেলিব্রেশন নাই। ইসলামে কি ফান নাই? আছে। আল্লাহ্‌র বেঁধে দেওয়া গণ্ডীতে বাচ্চারা মজা করে। কিন্তু ফর দ্যা সেইক অফ ফান, ব্ল্যাক ম্যাজিক, স্পিরিট ডেকে আনার ভান করা, শয়তানকে খুশি করে, আল্লাহ্‌কে না।

গতকাল বের হয়ে আমি এই মানুষগুলার জন্য দু'আ করছিলাম। মুসলিম এবং নন-মুসলিম। এদেরকে পথ দেখাও আল্লাহ্‌। আই ফিল সো ব্লেসড, যে এসব পাগলামিতে আমিও পড়তে পারতাম, আল্লাহ্‌ দূরে রেখেছেন। জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট জীবনটা আল্লাহ্‌র চাওয়া অনুযায়ী পার করতে পারলে, অচিন্তনীয় পুরস্কারময় জীবন অপেক্ষা করে আছে।


আমার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রথম প্রকাশিত

11 comments on “হ্যালোউইন গেলো গতকাল। সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম কাজে। দেখি এলাকার দুনিয়ার ছেলে-বুড়া ...”

  1. এটা তো বুঝলাম নন মুসলিমদের কাজ। কিন্তু সৌদি আরবেও এই উৎসব হয় সেটা কি জানো? সত্যি ই আমি হতবাক এসব কিসের লক্ষণ?

  2. আল্লাহ আমাদেরকে ....আমাদের চিন্তা ভাবনাকে হেফাজত করুন ।।আর একটা কথা বলার খুব ইচ্ছে করছে ..এটা হচ্ছে হ্যালোইন কি তা মাথায় ঢুকে যাচ্ছে অথচ ওমর ..আব্দুল্লাহ এসব নামের মিনিং টাও কিন্তু সেই বাচ্চা জানেনা ।।বড়ই আশ্চর্য.......

  3. We are all misguided . depressing.hijab pore mohilara ja Kore ta mana khub koshtokor, hijab nie tamasha.purush Manush nàmaj pore kople kalo dag fele dai, ghusher offer dai o nai.shob gulie feiechi .namajo pori halloweeno Kori,hijabo pori neche neche kaporo bikri Kori,shobar I neijosho akta explanation ache .ki je akta obostha.tate kao khub valo acha bolao to mone hoyna.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © Afifa Riahana
Designed by Thinkpool
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram